বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় দিন দিন ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়ার আসর। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটনির্ভর বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ পরিবারগুলোতে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের অনেক তরুণ দ্রুত টাকা পাওয়ার আশায় অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন। শুরুতে অল্প অর্থ দিয়ে খেলা শুরু করলেও একপর্যায়ে বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে কেউ ঋণগ্রস্ত, কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, আবার কেউ মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়ছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
অনলাইন জুয়ার নেশায় পড়ে পরিবারের সঞ্চয়, ধার করা টাকা কিংবা ঋণের অর্থ হারানোর ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই এসব জুয়ার প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করা যাচ্ছে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার তরুণরাও এর আওতায় চলে আসছেন। তবে এসব কার্যক্রম বন্ধে দৃশ্যমান অভিযান ও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—অনলাইন জুয়ার বিস্তার যদি স্থানীয়ভাবে এতটাই দৃশ্যমান হয়, তাহলে এর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?
তাদের দাবি, শুধু জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না; অনলাইন জুয়ার প্রচার, পরিচালনা ও অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।