মুসা (আ.) ছিলেন বনি ইসরাইলের প্রতি প্রেরিত একজন মহান নবী। আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নির্দেশে তিনি একবার জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে এক রহস্যময় আল্লাহর বান্দার সঙ্গে সফর করেন—যিনি পরিচিত খিজির (আ.) নামে। এই ঘটনাটি পবিত্র কুরআনের সুরা কাহফ-এ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা মুসা (আ.)-কে জানিয়ে দেন যে, এমন একজন বান্দা আছেন যাঁর কাছে বিশেষ জ্ঞান রয়েছে। সেই জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে মুসা (আ.) খিজির (আ.)-এর সঙ্গ লাভ করেন। তবে শর্ত ছিল—খিজির (আ.) যা করবেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা যাবে না।
১. নৌকা ছিদ্র করা
খিজির (আ.) একটি নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত করেন। মুসা (আ.) তা অন্যায় মনে করে প্রশ্ন করেন।
➡️ পরে জানা যায়, সামনে এক জালিম রাজা ছিল যে ভালো নৌকা দখল করত—নৌকাটি রক্ষা করতেই এমনটি করা হয়।
২. এক কিশোরকে হত্যা
এটি মুসা (আ.)-এর কাছে অত্যন্ত কঠিন মনে হয়।
➡️ খিজির (আ.) ব্যাখ্যা করেন, ওই কিশোর বড় হয়ে তার ঈমানদার পিতা-মাতাকে পথভ্রষ্ট করত।
৩. ভাঙা প্রাচীর মেরামত
কোনো পারিশ্রমিক না নিয়ে একটি দেয়াল ঠিক করা হয়।
➡️ কারণ, দেয়ালের নিচে ছিল এতিম দুই শিশুর সম্পদ—তাদের বড় হওয়া পর্যন্ত তা নিরাপদ রাখাই উদ্দেশ্য।
আল্লাহর পরিকল্পনা সবসময় মানুষের বোধগম্য নয়
জ্ঞানের স্তর ভিন্ন হতে পারে
ধৈর্য ও বিনয় জ্ঞান অর্জনের মূল শর্ত
বাহ্যিকভাবে মন্দ মনে হলেও এর পেছনে কল্যাণ থাকতে পারে
খিজির (আ.)-এর সঙ্গী হিসেবে মুসা (আ.) আমাদের শিখিয়ে গেছেন—মানুষ যত বড় নবী বা জ্ঞানীই হোক, আল্লাহর জ্ঞানের সামনে সবাই সীমিত। তাই ধৈর্য, বিনয় ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসাই হলো প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।